বিদেশে থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা। অনেকেই ভাবেন, পাসপোর্ট ছাড়া হয়তো দেশে ফেরা অসম্ভব। কিন্তু ভয়ের কিছু নেই। বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য ‘ট্রাভেল পাস’ (Travel Pass) নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে। Migrants Guide-এর এই সেকশনে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব কীভাবে আপনি বাংলাদেশ হাই কমিশন বা দূতাবাস থেকে ‘ট্রাভেল পাস’ সংগ্রহ করে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন।
ট্রাভেল পাস কী ?
সহজ কথায়, ট্রাভেল পাস হলো একটি ‘ওয়ান-টাইম ট্রাভেল ডকুমেন্ট’। যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই, কিন্তু জরুরিভিত্তিতে বাংলাদেশে ফিরতে হবে, তাদের জন্য দূতাবাস এই বিশেষ পাস ইস্যু করে।
ট্রাভেল পাস সংগ্রহের ৬টি ধাপ
ধাপ ১: নিশ্চিত হোন আপনার ট্রাভেল পাস লাগবে কিনা
সবার আগে পরিস্থিতি বুঝুন। আপনার কি ট্রাভেল পাস দরকার, নাকি নতুন পাসপোর্ট?
- যদি আপনার পাসপোর্ট হারিয়ে যায় এবং দ্রুত দেশে ফিরতে হয়—তাহলে ট্রাভেল পাস।
- যদি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং রিনিউ করার সময় না থাকে—তাহলে ট্রাভেল পাস।
- মনে রাখবেন: ট্রাভেল পাস দিয়ে শুধু একবারই দেশে ফেরা যায়। এটি দিয়ে পুনরায় বিদেশে যাওয়া যায় না।
ধাপ ২: থানায় জিডি (GD) করুন (শুধুমাত্র হারিয়ে গেলে)
যদি আপনার পাসপোর্ট চুরি বা হারিয়ে গিয়ে থাকে, তবে সবার আগে আপনার নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটি জিডি (General Diary) বা পুলিশ রিপোর্ট করুন। দূতাবাসের আবেদনে এই পেপারটি খুব জরুরি। মেয়াদ শেষ হলে এই ধাপটি প্রয়োজন নেই।
ধাপ ৩:প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নিন
দূতাবাসে যাওয়ার আগে নিচের ডকুমেন্টগুলো সাথে রাখুন, যাতে বারবার দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়:
- ট্রাভেল পাসের আবেদন ফর্ম (দূতাবাসেই পাওয়া যায়)।
- ৩-৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
- পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি (যদি থাকে)।
- নাগরিকত্বের প্রমাণ (এনআইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন সনদ)।
- জিডি কপি (পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে)।
ধাপ ৪: দূতাবাসে যোগাযোগ ও ইন্টারভিউ
সরাসরি বাংলাদেশ হাই কমিশন বা কনস্যুলেটে চলে যান এবং নির্দিষ্ট কাউন্টারে যোগাযোগ করুন। সেখানে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলুন।
-
ইন্টারভিউ: দূতাবাসের কর্মকর্তারা আপনাকে কিছু সাধারণ প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন: আপনার দেশের বাড়ি কোথায়, থানার নাম কী ইত্যাদি। এটি করা হয় শুধুমাত্র নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে আপনি বাংলাদেশের নাগরিক। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সততার সাথে উত্তর দিন।
ধাপ ৫: ফি জমা দেওয়া (সতর্কতা ও খরচ)
এখানেই অনেকে ভুল করেন এবং দালালের খপ্পরে পড়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করেন। Migrants Guide আপনাকে সঠিক তথ্য দিচ্ছে:
-
খরচ: ট্রাভেল পাসের সরকারি ফি খুবই সামান্য। দেশভেদে এটি ভিন্ন হতে পারে (যেমন: মধ্যপ্রাচ্যে ২০-৩০ রিয়াল এবং অন্যান্য দেশে ১০-১৫ ডলারের মতো)।
-
সতর্কতা: দূতাবাসের নির্ধারিত কাউন্টার ছাড়া অন্য কোথাও টাকা দেবেন না। রসিদ (Receipt) ছাড়া কোনো লেনদেন করবেন না। কোনো দালাল যদি “দ্রুত করিয়ে দেওয়ার” নাম করে টাকা চায়, তবে তা সম্পূর্ণ বেআইনি।
-
ফ্রি সার্ভিস: কোনো প্রবাসী যদি চরম আর্থিক সংকটে থাকেন বা ডিটেনশন সেন্টারে (জেল) থাকেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে দূতাবাস বিনামূল্যে ট্রাভেল পাস ইস্যু করে থাকে।
ধাপ ৬: ট্রাভেল পাস সংগ্রহ ও টিকেট
সাধারণত ৩ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আপনি ট্রাভেল পাস হাতে পেয়ে যাবেন।
-
মেয়াদ: হাতে পাওয়ার পর খেয়াল করবেন এতে একটি মেয়াদ (যেমন ৩ মাস) দেওয়া থাকে। এই সময়ের মধ্যেই আপনাকে বিমানের টিকেট কেটে দেশে ফিরতে হবে।
মাইগ্রেন্টস গাইড পরামর্শ
ট্রাভেল পাসের সাথে ক্ষেত্র বিশেষ কিছু কিছু দেশ যেমন সৌদি আরব বা মালয়েশিয়ার মতো অনেক দেশ থেকে ফেরার সময় ইমিগ্রেশন বা পুলিশ থেকে ‘এক্সিট পারমিট’ (Exit Permit) বা ফাইনাল ক্লিয়ারেন্স ও নিতে হয়। এটি ছাড়া এয়ারপোর্টে আপনাকে আটকে দিতে পারে। তাই এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগেই এই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিন।
Excellent explanation, thanks!
This really helped me a lot.